অনিয়মিত মাসিক হলে রোজা রাখা যাবে কি? জানুন আসল হাদীস
প্রিয় বোনেরা অনেকেই জানতে চাই অনিয়মিত মাসিক হলে রোজা রাখা যাবে কি? কিংবা অনিয়মিত মাসিক হলে কুরআন পড়া যাবে কি? আবার অনেকে এটাও জিজ্ঞাসা করেন অনিয়মিত মাসিক হলে নামাজ পড়া যাবে কি? আজকে আপনাদের সেই সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আমরা হাজির হয়েছি এই পোস্টে।
আজকের এই পোস্টে আলোচনা করা হবে অনিয়মিত মাসিক হলে রোজা রাখা যাবে কি, অনিয়মিত মাসিক হলে কুরআন পড়া যাবে কি, পিরিয়ড ১০ দিনের বেশি হলে নামাজ পড়া যাবে কি?? চোদোন আমরা দেখিনি পবিত্র রমজান মাসে আপনারা অনিয়মিত মাসিক থাকা অবস্থায় রোজা রাখতে পারবেন কি।
অনিয়মিত মাসিক হলে রোজা রাখা যাবে কি
নারীদের এই অনিয়মিত মাসিক একটি জটিল সমস্যা। অনিয়মিত মাসিক বলতে বোঝায় যখন প্রতিমাসে দুই থেকে তিনবার মাসিক হবে কিংবা দুই তিন মাস পরপর মাসিক হবে অর্থাৎ প্রতি মাসে যদি একবার মাসিক না হয় তাহলে তাকে বলা হবে অনিয়মিত মাসিক।
এই অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা সবচেয়ে বেশি হয় ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী মেয়েদের। যাদের বয়স ৪০ থেকে ৪৫ এর ওপরে তাদের অনিমিত মাসিকের সমস্যা হওয়া খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার কিন্তু বর্তমান সময়ে ২০ ২২ বছরের কিশোরীদেরও অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
এই অনিয়মিত মাসিক হলে রোজা রাখা যাবে কি ?? না হাদিসে এ বিষয়ে খুব স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে যে ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে একজন নারী সালাত এবং রোজা থেকে বিরত থাকবে এই সময়ে রোজা রাখা যাবে না নামাজ আদায় করা যাবে না।
পিরিয়ড চলাকালীন সময়টি মেয়েদের জন্য খুব কষ্ট দেয়া হয় পিরিয়ডের দিনগুলো স্বাভাবিক দিনগুলোর তুলনায় খুব বেশি কষ্টকর হয়ে থাকে এই সময় ভিন্ন ভিন্ন হরমোনের পরিবর্তন হয় শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে। পেটে তীব্র ব্যথা হয় অনেকের বমি বমি ভাব দেখা দেয়।
এই সময় কাজ কাম করা রোজা রাখা কষ্টকর হতে পারে এজন্য সৃষ্টিকর্তা নারীদের কথা চিন্তা করে বিবেচনা করে এই সময় রোজা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। আপনি অন্যান্য যে কোন সময় রোজা রাখতে পারবেন কিন্তু ভিডিও চলাকালীন সময়ে অথবা অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা থাকলেও রোজা রাখা যাবে না।
এ বিষয়ে আমাদের নবী মোহাম্মদ (সা:) বলেন , تمتنع النساء عن الصلاة والصيام خلال فترة الحيض.
বাংলায়: মাসিক কিংবা ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে মেয়েরা রোজা রাখা এবং নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকবে।
কেউ যদি নবীর দেওয়া এই বিধি-বিধান কে অমান্য করে তাহলে অবশ্যই তার পাপ হতে পারে এজন্য আপনারা চেষ্টা করবেন ঋতুস্রাব কিংবা অনিয়মিত মাসিক চলাকালীন অবস্থায় কখনোই নামাজ পড়বে না এবং রোজা রাখবেন না।
প্রতিমাসে একবার নারীদের পিরিয়ড হয় এবং প্রতি রমজান মাসে নারীরা তিন চারদিন কিংবা পাঁচদিন পর্যন্ত পিরিয়ডের জন্য রোজা রাখতে পারে না সে ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি নারীর তিনটা চারটা কিংবা পাঁচটা রোজা কাজা হয়। এটি খুবই স্বাভাবিক কিন্তু যাদের অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা রয়েছে।
অনেকের প্রতি মাসে দুই থেকে তিনবার পিরিয়ড হয় সেই ক্ষেত্রে অনেকগুলো রোজা কাজা হয়ে যায়। কিন্তু যেহেতু হাদিসে রয়েছে মাসিক চলাকালীন অবস্থায় কোনোভাবেই রোজা রাখা যাবে না সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাদেরকে এই বিধি-বিধান মান্য করতে হবে।
আমরা জানি আমাদের পবিত্র রমজান মাস হাজার ও গুনে বরকতে ভরপুর একটি মাস এই মাসের উসিলায় সৃষ্টিকর্তা আমাদের প্রত্যেককে ক্ষমা করে দিন। এ মাস হচ্ছে বরকতের মাস এই মাসে যদি কোন কিছু সৃষ্টিকর্তা নিকট চাওয়া হয় তাহলে কখনোই সৃষ্টিকর্তা আপনাকে না বলবেন না।
ইসলামের বিধি-বিধান অনুসারে মাসিক কিংবা হায়েজ থাকা অবস্থায় রোজা রাখা কখনোই সম্ভব নয়। এমন কি হাদিসে আরো রয়েছে যে নারীদের পিরিয়ড এর শেষ দিনে রোজা রাখতে পারবেন না সম্পূর্ণরূপে পিরিয়ড ভালো হয়ে যাওয়ার পরে গোসল করে পবিত্র হয়ে তারপর রোজা রাখবেন।
যেমন মনে করুন আজকের সকল বারোটা কিংবা দুপুর 1 টায় মাসিকের সমস্যার ভালো হয়ে গেছে এই সময় আপনি চাইলে কিন্তু রোজা রাখতে পারবেন না আপনাকে আবারো অপেক্ষা করতে হবে আগামী দিনের জন্য অথবা আপনি চাইলে এখনি খুব ভালোভাবে গোসল করে ফরজ গোসল পালন করে,
পবিত্র হয়ে তারপর ভোররাতে ভাত খেয়ে আগামীকাল রোজা রাখবেন। আর যদি আপনি ফরজ গোসল পালন না করেন পাক পবিত্র অবস্থায় না থাকেন তাহলে কিন্তু আপনি আগামীকালকেও রোজা রাখতে পারবেন না। হানিফ মাযহাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত হাইট ধরা হয়।
যদি এই সময়ে বেশি সময় পর্যন্ত মাসিক থাকে তাহলে তাকে বলা হয় ইজতেহাজা। হাদিসে নারীদের মাসি থেকে একটি অপবিত্র অবস্থায় বলা হয়েছে এই অপবিত্র অবস্থায় থাকা অবস্থায় নারীরা কোনভাবেই রোজা রাখতে পারবে না।
অনিমিত মাসিক হলে কুরআন পড়া যাবে কি
অনেক বোনেরা আবার জিজ্ঞাসা করেন অনিয়মিত মাসিক হলে কুরআন পড়া যাবে কি?? মাসিক চলাকালীন অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা যাবে না কারণ কুরআন হচ্ছে আমাদের পবিত্র একটি কিতাব। সর্বদা কুরআনকে সম্মান জানিয়ে তাকে চুমু দিয়ে আমরা কুরআন পাঠ করবো।
কিন্তু নারীদের প্রতি মাসে যে তিন দিন থেকে ১০ দিন পর্যন্ত একই সময় যাই এই সময়টিতে কুরানের স্পর্শ করা যাবে না এবং কুরআন তেলাওয়াত করা যাবে না। তাই আপনারা কখনো মাসিক চলাকালীন অবস্থায় কুরআন পাঠ করবেন না এই সময় কুরআন পড়া যাবে না।
মাসিক চলাকালীন অবস্থায় কুরআন পাঠ করতে পারবেন না নামাজ কায়েম করতে পারবেন না এবং রোজা রাখতে পারবেন না অর্থাৎ এই সময় সকল নামাজ রোজা এবং কুরআন থেকে আপনাকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কারণ হাদিসে রয়েছে মাসিক চলাকালীন এই সময় কি নারীরা অপবিত্র থাকে।
মাসিক ভালো হয়ে গেলে তারপর ফরজ গোসল করে সম্পন্ন পবিত্র হয়ে এরপর আপনি কুরআন স্পর্শ করতে পারবেন কুরআন তেলাওয়াত করতে পারবেন নামাজ কায়েম করতে পারবেন এবং রোজা রাখতে পারবেন। তবে প্রিয় বোনেরা আরো একটি হাদিস থেকে জানা যায়,
মহিলাদের ইস্তিহাজা থাকা অবস্থায় অর্থাৎ মহিলাদের মাসিক চলাকালীন অবস্থাতে তারা কুরআন তেলাওয়াত করতে পারবে।ইস্তিহাজা বলতে বোঝায় মেয়েদের অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা। মাসিকের সমস্যাকে আরবিতে বলা হয় হায়েজ ।
এই হায়েজ প্রতিমাসে মেয়েদের তিন থেকে দশ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে কিন্তু এর বেশি সময় পর্যন্ত যদি থাকে তাহলে তাকে ধরা হয় ইস্তিহাজা। অর্থাৎ অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা থাকলে মেয়েরা সুন্দরভাবে পাক-পবিত্র হয়ে কুরআন তেলাওয়াত করতে পারবে এতে কোন বাধা নেই। বিশেষভাবে যদি এমন কোন আশঙ্কা থাকে।
যে কুরআন ভুলে যেতে পারে তাহলে অবশ্যই এই সময়ে মহিলাদের অনিমিত মাসিক থাকা অবস্থায় কুরআন পড়ার বিধান রয়েছে।। এই সম্পর্কে ইব্রাহিম বলেন মহিলাদের অনিয়মিত মাসিক থাকা অবস্থায় কুরআন পড়তে কোন বাধা নেই।
মাসে ২ বার মাসিক হলে নামাজ পড়া যাবে কি
অনেক বোনেরা কমেন্ট বক্সে জিজ্ঞাসা করেন মাসে ২ বার মাসিক হলে নামাজ পড়া যাবে কি?? যদি মাসে দুইবার তিনবার কিংবা পাঁচবার পর্যন্ত মাসিক হয় তাহলে নামাজ পড়া যাবে না মাসিক চলাকালীন অবস্থায় কোনভাবে নামাজ আদায় করা যাবে না।
এই সময়টি শুধুমাত্র বিশ্রাম নিতে হবে সৃষ্টিকর্তা বলেছেন এই সময় নারীরা অপবিত্র থাকে এবং এই সময় নারীদের সুদের ভিন্ন ভিন্ন হরমোন পরিবর্তন হয় তাদের মানসিক এবং শারীরিক পরিবর্তন ঘটে তাই এই সময়টি নারীরা শুধুমাত্র বিশ্রাম নিবে।
নারীদের মাসে দুইবার তিনবার চারবার কিংবা পাঁচবার মাসিক হলে নামাজ পড়তে পারবেনা এমনকি নারীদের যদি মাসে একবার পিরিয়ড হয় তবু এই সময়টি নামাজ পড়তে পারবে না। পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে নারীদেরকে বিশ্রাম নিতে হবে এবং এই সময় নামাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
পিরিয়ড ১০ দিনের বেশি হলে নামাজ পড়া যাবে কি
অনেক বোনেরা আরো প্রশ্ন করেন যে পিরিওড ১০ দিনের বেশি হলে নামাজ পড়া যাবে কি?? না যদি পিরিয়ড ১০ দিনের বেশি হয় কিংবা যদি ১৫ দিনের বেশি হয় কিংবা যদি পাঁচ দিন আরো বেশি হয় অর্থাৎ এক্সাম্পল দিয়ে বোঝাচ্ছি যদি পিরিয়ড ১০ দিন ১৫ দিন কিংবা এক মাস পর্যন্ত থাকে তাহলেও আপনারা নামাজ পড়তে পারবেন না।
পিরিয়ড সম্পূর্ণরূপে ভালো হয়ে যাওয়ার পর ফরজ গোসল আদায় করে নেওয়ার পর তারপর একদম পাক-পবিত্র অবস্থায় নামাজ আদায় করতে হবে। অপবিত্র থাকা অবস্থায় কখনো নামাজ পড়া যাবে না। আশা করছি সকলে বুঝতে পেরেছেন পিরিয়ড ১০ দিনের বেশি হলে নামাজ পড়া যাবে কি।
পিরিয়ড ১০ দিনের বেশি হলে রোজা রাখা যাবে কি
পিরিয়ড ১০ দিনের বেশি ১৫ দিনের বেশি কিংবা যদি একমাস পর্যন্তও থাকে তাহলেও রোজা রাখা যাবে না। রোজা রাখতে হবে সম্পূর্ণ পাক পবিত্র অবস্থায়। যদি পিরিয়ড চলাকালীন অবস্থায় কেউ রোজা রাখে নামাজ পড়ে তাহলে অবশ্যই এসেছে পাপ হবে।
কারণ পিরিয়ড চলাকালীন অবস্থায় রোজা রাখা নামাজ পড়া মানে হচ্ছে বিধি বিধান লঙ্ঘ করা। হাদিসে স্পষ্টভাবে মানা করা হয়েছে যে তোমরা পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে কখনোই রোজা রাখবে না এবং নামাজ কায়েম করবে না।। পিরিয়ড সম্পূর্ণরূপে ভালো হয়ে যাবে তারপরে তোমরা পাক পবিত্র হয়ে রোজা রাখতে পারবে।
পিরিয়ডের কতদিন পর নামাজ পড়া যায়?
পিরিয়ডের কতদিন পর নামাজ পড়তে পারবেন?? পিরিয়ড চলাকালীন অবস্থায় নামাজ পড়া যাবে না কিন্তু পিরিয়ডের কতদিন পর নামাজ পড়া যায়?? পিরিয়ড সম্পূর্ণরূপে ভালো হয়ে যাওয়ার পর যখন আর এক ফোটাও লাল দাগ থাকবে না তখন ফরজ গোসল আদায় করে নিতে হবে।
ফরজ গোসল আদায় করে নেওয়ার পর তারপর থেকে আপনি নামাজ পড়তে পারবেন। কিন্তু পিরিয়ড চলাকালীন সময়ের পর যদি ফরজ গোসল আদায় না করেন পাক পবিত্র অবস্থায় না আসেন তাহলে নামাজ পড়তে পারবেন না।
অনেকেই রয়েছেন রাতে ভিডিওড ভালো হয়ে গেল তাহলে সেই সময় থেকেই এশার নামাজ পড়ে নিল কিন্তু এতে পাপ হতে পারে এবং এ পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ ভুল। পিরিয়ড ভালো হয়ে যাওয়ার পরে অবশ্যই ফরজ গোসল আদায় করতে হবে সম্পূর্ণ পাক-পবিত্র হতে হবে তারপরে নামাজ পড়তে হবে।
পিরিয়ডের কতদিন পর রোজা রাখা যাবে?
এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে পিরিয়ডের কতদিন পর রোজা রাখা যাবে?? পিরিয়ড ভালো হয়ে যাওয়ার পর থেকেই আপনারা ফরজ গোসল আদায় করার পরে রোজার নিয়ত করতে পারবেন। পিরিয়ড সম্পূর্ণরূপে ভালো হয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে যখন এক ফোটাও লাল দাগ পাওয়া যাবে না তখন ফরজ গোসল আদায় করে নিয়ে রোজার নিয়ত করবেন এবং সেহরি খাওয়া শুরু করবেন।
লেখক এর শেষ কথা
প্রিয় পাঠক অথবা প্রিয় বোনেরা আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে আলোচনা করা হলো অনিয়মিত মাসিক হলে কুরআন পড়া যাবে কি?? অনিয়মিত মাসিক হলে রোজা রাখা যাবে কি?? পিরিয়ড ১০ দিনের বেশি হলে নামাজ পড়া যাবে কি? পিরিয়ডের কতদিন পর নামাজ পড়া যায় ??
অথবা মাসে ২ বার মাসিক হলে নামাজ পড়া যাবে কি?? আজকের এই পোস্টটিতে প্রিয় বোনদের জন্য সব কিছু বিস্তারিত আলোচনা করলাম যে মাসিক থাকা অবস্থায় রোজা রাখা যাবে কি নামাজ পড়া যাবে কি এবং কুরআন পড়া যাবে কি?? যেহেতু সামনে পবিত্র রমজান মাস আসছে সেই জন্য এই পোস্টটি সম্পূর্ণ দেখে নিন।

বাংলা আইটিটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url