ভাপা পিঠা রেসিপি — শীতের সকালে গরম ভাপা পিঠা
শীতের সকালে কুয়াশা ভেজা হাওয়ার মধ্যে যখন ভাপা পিঠার ভাপের গন্ধ নাকে আসে, তখন ঘুম থেকে উঠতে আর দেরি হয় না। গরম ভাপা পিঠা মুখে দিলেই চালের গুঁড়ার নরম স্বাদ, ভেতরে নারিকেল আর গুড়ের মিষ্টি পুর — এই স্বাদ শীতের সকালকে করে তোলে আরও মিষ্টি। ভাপা পিঠা মানেই শীতের সকাল, পৌষ পার্বণ আর পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে বসে খাওয়ার আনন্দ।
অনেকেই জানতে চান, ঘরে বসে দোকানের মতো নরম ভাপা পিঠা কীভাবে বানানো যায়। কারণ অনেকের পিঠা শক্ত হয়ে যায়, আবার কারো পিঠা ভাপে ঠিকমতো সেদ্ধ হয় না। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ভাপা পিঠা বানানোর সম্পূর্ণ গাইড দেবো। এখানে আপনি জানতে পারবেন ভাপা পিঠার জন্য কী কী উপকরণ লাগবে, চালের গুঁড়া কীভাবে তৈরি করতে হয়, নারিকেল-গুড়ের পুর বানানোর নিয়ম, ভাপে রান্না করার সহজ উপায়, আর নরম পিঠার গোপন টিপস। চলুন, তাহলে শুরু করা যাক।
নিচের যে অংশ থেকে পড়তে চান, ক্লিক করুন
- ভাপা পিঠা কেমন পিঠা?
- ভাপা পিঠা বানাতে কী কী উপকরণ লাগবে?
- ভাপা পিঠার চালের গুঁড়া কীভাবে তৈরি করবেন?
- নারিকেল-গুড়ের পুর কীভাবে বানাবেন?
- ধাপে ধাপে ভাপা পিঠা বানানোর নিয়ম
- ভাপে রান্না করার সহজ উপায়
- ভাপা পিঠা নরম রাখার গোপন উপায়
- ভাপা পিঠা কীভাবে খাবেন ও পরিবেশন করবেন?
- আমাদের শেষ কথা
- ভাপা পিঠার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
- ভাপা পিঠার বিভিন্ন রকম
- ভাপা পিঠা বানানোর সময় সাধারণ ভুল
ভাপা পিঠা কেমন পিঠা?
ভাপা পিঠা হলো বাংলার সবচেয়ে প্রিয় শীতের পিঠাগুলোর একটি। চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি এই পিঠা ভাপে সেদ্ধ করা হয়, তাই এর নাম ভাপা পিঠা। ভেতরে থাকে নারিকেল আর গুড়ের মিষ্টি পুর। গরম গরম ভাপা পিঠা খেতে যে কী মজা, সেটা যে একবার খেয়েছে, সেই জানে।
ভাপা পিঠা শুধু শীতকালে বানানো হয়, কারণ শীতের সময়ই পাওয়া যায় নতুন চালের গুঁড়া, তাজা নারিকেল আর খেজুরের গুড়। পৌষ পার্বণে প্রায় সব বাড়িতেই ভাপা পিঠা বানানো হয়। শীতের সকালে পরিবারের সবাই মিলে গরম ভাপা পিঠা খাওয়ার আনন্দই আলাদা।
ভাপা পিঠা তেলে ভাজা হয় না, ভাপে সেদ্ধ করা হয়। তাই এটা অন্য পিঠার তুলনায় হালকা আর স্বাস্থ্যকর। তবে এতে গুড় আর নারিকেল থাকে, তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। সকালে ২-৩টি গরম ভাপা পিঠা খেলে শীতের সকালটা হয়ে উঠবে একদম পারফেক্ট।
ভাপা পিঠা বানাতে কী কী উপকরণ লাগবে?
ভাপা পিঠা বানাতে খুব বেশি উপকরণ লাগে না। নিচে প্রায় ১০-১২টি ভাপা পিঠা বানানোর উপকরণের তালিকা দেওয়া হলো।
- চালের গুঁড়া — ২ কাপ (আতপ চালের গুঁড়া সবচেয়ে ভালো)
- নারিকেল কুরানো — ১ কাপ
- খেজুরের গুড় — আধা কাপ (ছোট টুকরো করা)
- লবণ — আধা চা চামচ
- গরম পানি — প্রয়োজনমতো (প্রায় আধা কাপ)
- এলাচ গুঁড়া — এক চিমটি (ঐচ্ছিক)
- দুধ — ২ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক, পিঠা নরম রাখতে সাহায্য করে)
উপকরণ কেনার সময় চালের গুঁড়ার দিকে বিশেষ নজর দিন। ভাপা পিঠার জন্য আতপ চালের গুঁড়া সবচেয়ে ভালো হয়। বাজারে ভাপা পিঠার জন্য বিশেষভাবে তৈরি চালের গুঁড়া পাওয়া যায়, সেটা কিনতে পারেন। আর নারিকেল যেন একদম তাজা হয়, সেটা খেয়াল রাখবেন।
ভাপা পিঠার চালের গুঁড়া কীভাবে তৈরি করবেন?
ভাপা পিঠার আসল রহস্য লুকিয়ে আছে চালের গুঁড়ায়। গুঁড়া ঠিকমতো তৈরি না হলে পিঠা শক্ত হয়ে যায়।
প্রথমে আতপ চাল ৩-৪ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পানি ঝরিয়ে চালগুলো ছায়ায় শুকিয়ে নিন। চাল যখন হালকা ভেজা থাকবে, তখন সেটা ঢেঁকি বা মিক্সারে গুঁড়া করে নিন। গুঁড়া যেন একদম মিহি না হয়, একটু মোটা দানার মতো থাকলেই ভালো হয়। মিহি গুঁড়ায় পিঠা শক্ত হয়ে যায়।
গুঁড়া করার পর সেটা চালুনি দিয়ে চেলে নিন। মোটা দানাগুলো আবার গুঁড়া করে নিন। এরপর গুঁড়ায় আধা চা চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। তারপর সামান্য গরম পানি ছিটিয়ে হাত দিয়ে ভালো করে মেখে নিন। গুঁড়া যখন হাতে চাপ দিলে জমাট বাঁধবে, আবার ছাড়লে ভেঙে যাবে — তখন বুঝবেন গুঁড়া তৈরি। এই অবস্থাকে বলে ঝুরঝুরে গুঁড়া। এটাই ভাপা পিঠার জন্য পারফেক্ট।
নারিকেল-গুড়ের পুর কীভাবে বানাবেন?
ভাপা পিঠার ভেতরের পুরই এর আসল স্বাদ। পুর বানানোর নিয়মটা জেনে নিন।
একটি বাটিতে কুরানো নারিকেল, খেজুরের গুড়ের ছোট টুকরো আর এক চিমটি এলাচ গুঁড়া মিশিয়ে নিন। ভালো করে মাখিয়ে নিলেই পুর তৈরি। পুরে চাইলে সামান্য কাজু বাদাম কুচি বা কিসমিস দিতে পারেন, তবে ঐতিহ্যবাহী ভাপা পিঠায় শুধু নারিকেল আর গুড়ই থাকে।
গুড়ের পরিমাণ নিজের স্বাদ অনুযায়ী কম-বেশি করতে পারেন। যারা কম মিষ্টি পছন্দ করেন, তারা গুড় একটু কম দিন। আর যারা মিষ্টি বেশি পছন্দ করেন, তারা গুড় একটু বেশি দিন। তবে গুড় বেশি দিলে রান্নার সময় গুড় গলে পিঠা থেকে বের হয়ে যেতে পারে, তাই পরিমাণটা ঠিক রাখা ভালো।
ধাপে ধাপে ভাপা পিঠা বানানোর নিয়ম
ধাপ ১: চালের গুঁড়া প্রস্তুত করা
প্রথমে উপরের নিয়মে চালের গুঁড়া ঝুরঝুরে করে মেখে নিন। গুঁড়া প্রস্তুত হয়ে গেলে সেটা ১০-১৫ মিনিট ঢেকে রেখে দিন। এতে গুঁড়া পানি শুষে নরম হবে।
ধাপ ২: ছাঁচে গুঁড়া দেওয়া
ভাপা পিঠা বানানোর জন্য ছোট বাটি বা ভাপা পিঠার ছাঁচ ব্যবহার করুন। ছাঁচের নিচে একটা পাতলা সুতি কাপড় বিছিয়ে দিন। তারপর ছাঁচে এক স্তর চালের গুঁড়া দিয়ে মাঝখানে একটু গর্ত করে নিন।
ধাপ ৩: পুর ভরা
গর্তের মধ্যে ১-২ টেবিল চামচ নারিকেল-গুড়ের পুর দিন। তারপর ওপরে আবার চালের গুঁড়া দিয়ে ঢেকে দিন। হাত দিয়ে হালকা করে চেপে সমান করে নিন। খুব জোরে চাপ দেবেন না, তাহলে ভাপ ঠিকমতো ঢুকবে না আর পিঠা শক্ত হয়ে যাবে।
ধাপ ৪: ভাপে রান্না করা
ভাপা পিঠা ভাপে রান্না করতে হয়। নিচে ভাপে রান্না করার সহজ উপায় বিস্তারিতভাবে বলা হলো।
ভাপে রান্না করার সহজ উপায়
ভাপা পিঠা ভাপে রান্না করার দুটি উপায় আছে — ঐতিহ্যবাহী উপায় আর সহজ ঘরোয়া উপায়।
ঐতিহ্যবাহী উপায়: মাটির হাঁড়ি
আগে গ্রামে মাটির হাঁড়িতে পানি ফুটিয়ে তার মুখে সুতি কাপড় বেঁধে পিঠা ভাপানো হতো। হাঁড়ির পানি ফুটতে শুরু করলে কাপড়ের ওপরে পিঠার ছাঁচ বসিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হতো। ৫-৭ মিনিট ভাপে রেখে পিঠা নামানো হতো।
সহজ ঘরোয়া উপায়: প্রেসার কুকার বা হাঁড়ি
আজকাল প্রেসার কুকারে ভাপা পিঠা বানানো সবচেয়ে সহজ। প্রেসার কুকারে ১ কাপ পানি দিয়ে তার ভেতরে একটি ছোট স্ট্যান্ড বসান। স্ট্যান্ডের ওপরে পিঠার ছাঁচ রেখে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন (সিটি লাগাবেন না)। মাঝারি আঁচে ৫-৭ মিনিট ভাপে রাখুন।
আরেকটি সহজ উপায় হলো বড় হাঁড়িতে পানি ফুটিয়ে তার ওপরে ছিদ্রযুক্ত থালা বা চালুনি বসানো। চালুনির ওপরে পিঠার ছাঁচ রেখে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। ৫-৭ মিনিট ভাপে রাখলেই পিঠা তৈরি।
পিঠা হয়েছে কিনা বোঝার উপায় হলো — পিঠার গায়ে যখন চালের গুঁড়ার কাঁচা ভাব থাকবে না আর পিঠা থেকে সুন্দর গন্ধ বের হবে, তখন বুঝবেন পিঠা তৈরি। পিঠা ভাপ থেকে নামানোর সময় সাবধানে নামান, কারণ ভাপ খুব গরম হয়।
ভাপা পিঠা নরম রাখার গোপন উপায়
- চালের গুঁড়া একদম মিহি করবেন না। একটু মোটা দানার গুঁড়ায় পিঠা নরম হয়।
- গুঁড়া মাখার সময় গরম পানি ব্যবহার করুন। ঠান্ডা পানিতে গুঁড়া শক্ত হয়ে যায়।
- গুঁড়ায় ২ টেবিল চামচ দুধ মিশিয়ে নিলে পিঠা অনেক নরম হয়।
- ছাঁচে গুঁড়া দেওয়ার সময় খুব জোরে চাপ দেবেন না। হালকা চাপে ভাপ ঠিকমতো ঢুকে পিঠা নরম হয়।
- পিঠা ভাপে বেশি সময় রাখবেন না। ৫-৭ মিনিটই যথেষ্ট। বেশি সময় রাখলে পিঠা শক্ত হয়ে যায়।
- পিঠা বানানোর পর গরম গরম খান। ঠান্ডা হয়ে গেলে ভাপা পিঠা শক্ত হয়ে যায়।
ভাপা পিঠা কীভাবে খাবেন ও পরিবেশন করবেন?
ভাপা পিঠা গরম গরম খেতেই সবচেয়ে মজা। পিঠা ভাপ থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে প্লেটে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। ভাপা পিঠার সঙ্গে খেজুরের গুড়ের রস বা দুধ খেতে দারুণ লাগে।
শীতের সকালে চায়ের সঙ্গে ভাপা পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। পৌষ পার্বণে পরিবারের সবাই মিলে ভাপা পিঠা বানিয়ে খাওয়া একটা উৎসবের মতো। অতিথি এলে গরম ভাপা পিঠা পরিবেশন করলে সবাই খুশি হবে।
আরও দেখুন: শীতের আরেক জনপ্রিয় মিষ্টি নারিকেল নাড়ুর রেসিপি জানতে আমাদের পোস্টটি দেখুন। আর ঈদের বিশেষ রান্না জানতে পড়ুন — ঈদে গরুর মাংস রান্নার রেসিপি ২০২৬
ভাপা পিঠা খাওয়ার সুবিধা
- তেলে ভাজা হয় না, ভাপে সেদ্ধ করা হয় — তাই হালকা ও স্বাস্থ্যকর।
- শীতের সকালে গরম পিঠা শরীর গরম রাখে।
- বাচ্চা থেকে বড় — সবাই খেতে পারে।
- ঘরের উপকরণ দিয়েই বানানো যায়।
ভাপা পিঠা খাওয়ার অসুবিধা
- ঠান্ডা হয়ে গেলে শক্ত হয়ে যায়, তাই গরম গরম খেতে হয়।
- গুড় থাকে, তাই ডায়াবেটিস থাকলে পরিমিত খেতে হবে।
- একসঙ্গে অনেক পিঠা বানাতে সময় লাগে।
আরো জানুন: মুরগির মাংসের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে পড়ুন — ১০০ গ্রাম মুরগির মাংসে কত প্রোটিন – সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬
ভাপা পিঠার বিভিন্ন রকম
ভাপা পিঠা শুধু নারিকেল-গুড়ের পুর দিয়েই হয় না। পুরের ভিন্নতা অনুযায়ী ভাপা পিঠার অনেক রকম আছে। নিচে জনপ্রিয় কয়েকটি রকমের কথা বলা হলো।
দুধ ভাপা পিঠা
দুধ ভাপা পিঠা হলো ভাপা পিঠার সবচেয়ে মজাদার সংস্করণ। এই পিঠায় নারিকেল-গুড়ের পুরের সঙ্গে ঘন দুধ দেওয়া হয়। ভাপে রান্না করার সময় দুধ পুরের সঙ্গে মিশে পিঠাটাকে করে তোলে আরও নরম আর মিষ্টি। দুধ ভাপা পিঠা খেতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে শীতের সকালে, গরম গরম।
মাংসের পুরের ভাপা পিঠা
যারা মিষ্টি পিঠা কম পছন্দ করেন, তাদের জন্য মাংসের পুরের ভাপা পিঠা দারুণ একটা বিকল্প। এই পিঠায় নারিকেল-গুড়ের বদলে রান্না করা কিমা মাংসের পুর দেওয়া হয়। কিমা মাংসের সঙ্গে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ আর গরম মসলা মিশিয়ে পুর বানাতে হয়। এই পিঠা সকালের নাস্তা হিসেবে খেতে খুব ভালো লাগে।
তিলের ভাপা পিঠা
তিলের ভাপা পিঠায় নারিকেলের সঙ্গে ভাজা তিল মেশানো হয়। তিলের হালকা বাদামি গন্ধ পিঠার স্বাদকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়। তিলের ভাপা পিঠা বানানোর সময় পুরে ২ টেবিল চামচ ভাজা তিল দিলেই যথেষ্ট।
চিনির ভাপা পিঠা
গুড় না থাকলে চিনি দিয়েও ভাপা পিঠা বানানো যায়। চিনির ভাপা পিঠা দেখতে একটু সাদা হয় আর স্বাদটাও একটু হালকা হয়। গুড়ের ভাপা পিঠার তুলনায় চিনির ভাপা পিঠা একটু কম মিষ্টি হয়, তবে খেতে মোটেও খারাপ লাগে না।
ভাপা পিঠা বানানোর সময় সাধারণ ভুল
অনেকেই ভাপা পিঠা বানানোর সময় কিছু সাধারণ ভুল করে ফেলেন, যার ফলে পিঠা শক্ত হয়ে যায় বা ভাপে ঠিকমতো সেদ্ধ হয় না। এই ভুলগুলো জেনে রাখলে আপনার পিঠা সবসময় নরম হবে।
- চালের গুঁড়া একদম মিহি করা: ভাপা পিঠা শক্ত হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো মিহি গুঁড়া। গুঁড়া একটু মোটা দানার রাখুন, তাহলে পিঠা নরম হবে।
- ছাঁচে খুব জোরে চাপ দেওয়া: গুঁড়া ছাঁচে দেওয়ার সময় জোরে চাপ দিলে ভাপ ভেতরে ঢুকতে পারে না। হালকা চাপে গুঁড়া বসান।
- ঠান্ডা পানিতে গুঁড়া মাখা: ঠান্ডা পানিতে গুঁড়া মাখলে পিঠা শক্ত হয়ে যায়। গুঁড়া মাখার সময় সবসময় গরম পানি ব্যবহার করুন।
- ভাপে বেশি সময় রাখা: পিঠা ভাপে ৫-৭ মিনিটের বেশি রাখলে সেটা শক্ত হয়ে যায়। সময়মতো নামিয়ে নিন।
- ভাপ ঠিকমতো না ওঠা: হাঁড়ির পানি ভালোভাবে না ফুটলে ভাপ কম ওঠে আর পিঠা কাঁচা থেকে যায়। পানি টগবগ করে ফুটতে শুরু করলে তবেই পিঠা বসান।
- পিঠা ঠান্ডা করে খাওয়া: ভাপা পিঠা ঠান্ডা হয়ে গেলে শক্ত হয়ে যায়। তাই বানানোর পর গরম গরম খেয়ে ফেলাই ভালো।
ভাপা পিঠার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
ভাপা পিঠা অন্য পিঠার তুলনায় স্বাস্থ্যকর, কারণ এটা তেলে ভাজা হয় না, ভাপে সেদ্ধ করা হয়। চালের গুঁড়ায় আছে কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরে শক্তি জোগায়। শীতের সকালে গরম ভাপা পিঠা খেলে শরীর গরম থাকে আর অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে।
নারিকেলে আছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আর ফাইবার, যা হজমে সাহায্য করে। খেজুরের গুড়ে আছে আয়রন, যা রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। গুড়ে আরও আছে কিছু খনিজ উপাদান, যা চিনিতে থাকে না। তাই গুড়ের ভাপা পিঠা চিনির ভাপা পিঠার চেয়ে একটু বেশি উপকারী।
তবে মনে রাখবেন, ভাপা পিঠায় গুড় থাকে, তাই ডায়াবেটিস থাকলে পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। সকালে ২-৩টি ভাপা পিঠা খেলে কোনো সমস্যা হয় না। বাচ্চাদের জন্য ভাপা পিঠা খুব ভালো, কারণ এতে কোনো তেল বা ক্ষতিকর উপাদান থাকে না। শীতের সময়ে সপ্তাহে ২-৩ দিন ভাপা পিঠা খেলে শরীর ভালো থাকে আর মনও ভালো থাকে।
ভাপা পিঠা নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
প্রশ্ন: ভাপা পিঠা শক্ত হয়ে যায় কেন?
উত্তর: চালের গুঁড়া একদম মিহি হলে বা ছাঁচে খুব জোরে চাপ দিলে পিঠা শক্ত হয়ে যায়। গুঁড়া একটু মোটা রাখুন আর হালকা চাপে পিঠা বানান।
প্রশ্ন: ভাপা পিঠা বানাতে কত সময় লাগে?
উত্তর: প্রতিটা পিঠা ভাপে রান্না করতে ৫-৭ মিনিট সময় লাগে। ১০-১২টি পিঠা বানাতে মোটামুটি ১ ঘণ্টা সময় লাগবে।
প্রশ্ন: ভাপা পিঠা কি ফ্রিজে রাখা যায়?
উত্তর: ভাপা পিঠা ফ্রিজে রাখা যায় না বললেই চলে, কারণ ঠান্ডা হলে এটা শক্ত হয়ে যায়। তাই বানানোর পর গরম গরম খেয়ে ফেলাই ভালো।
প্রশ্ন: ভাপা পিঠার ছাঁচ না থাকলে কী করবো?
উত্তর: ছোট স্টিলের বাটি বা চায়ের কাপ ব্যবহার করতে পারেন। বাটির নিচে সুতি কাপড় বিছিয়ে নিলেই ছাঁচের কাজ হয়ে যাবে।
ভাপা পিঠা বানানোর সেরা সময় হলো শীতকাল, বিশেষ করে পৌষ আর মাঘ মাস। এই সময়ে বাজারে পাওয়া যায় নতুন আতপ চাল, তাজা নারিকেল আর খাঁটি খেজুরের গুড়। নতুন চালের গুঁড়ায় পিঠা হয় সবচেয়ে নরম আর সুগন্ধি। পৌষ পার্বণে পরিবারের সবাই মিলে ভাপা পিঠা বানানোর আনন্দই আলাদা। শীতের ছুটিতে বাড়িতে সবাই একসঙ্গে থাকলে সকালে ভাপা পিঠা বানিয়ে খাওয়া একটা সুন্দর পারিবারিক মুহূর্ত তৈরি করে। তাই শীতের এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে আজই বানিয়ে ফেলুন গরম ভাপা পিঠা।
আমাদের শেষ কথা
প্রিয় পাঠক, আশা করছি আপনারা সকলে বুঝতে পেরেছেন কীভাবে ঘরে বসে নরম গরম ভাপা পিঠা বানাতে হয়। সঠিক চালের গুঁড়া, ঠিকঠাক পুর আর ভাপে রান্নার সঠিক সময় — এই তিনটেই নরম ভাপা পিঠার গোপন রহস্য। শীতের এই সময়ে তাজা নারিকেল আর খেজুরের গুড় সহজেই পাওয়া যায়, তাই আজই বানিয়ে ফেলুন আপনার পরিবারের জন্য গরম ভাপা পিঠা।
আপনার বানানো পিঠা কেমন হলো, সেটা আমাদের জানাতে ভুলবেন না। আর নিয়মিত নতুন রেসিপি আর আপডেট পেতে আমাদের সাইটে চোখ রাখুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন আর শীতের পিঠা খেয়ে মজা করুন।

বাংলা আইটিটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url