নারিকেল নাড়ু রেসিপি — শীতে মজাদার নারিকেল নাড়ু
শীতের সকালে ঘরজুড়ে নারিকেল আর গুড়ের মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে মনটা যেন হঠাৎ ছোটবেলায় ফিরে যায়। মা-দাদির হাতে বানানো নরম নারিকেল নাড়ু, মুখে দিলেই গলে যায় — সেই স্বাদ কি আর ভোলা যায়! শীতকাল মানেই নারিকেল নাড়ুর সময়। বাজারে তখন পাওয়া যায় তাজা নারিকেল আর খেজুরের গুড়, আর এই দুটোর মিলেই তৈরি হয় বাংলার সবচেয়ে প্রিয় শীতের মিষ্টি।
অনেকেই জানতে চান, ঘরে বসে দোকানের মতো নরম নারিকেল নাড়ু কীভাবে বানানো যায়। কারণ অনেকের নাড়ু শক্ত হয়ে যায়, আবার কারো নাড়ু ভেঙে যায়। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নারিকেল নাড়ু বানানোর সম্পূর্ণ গাইড দেবো। এখানে আপনি জানতে পারবেন নারিকেল নাড়ুর জন্য কী কী উপকরণ লাগবে, গুড় আর চিনি — দুই রকম নাড়ু কীভাবে বানাতে হয়, নাড়ু নরম রাখার গোপন উপায়, আর সঠিকভাবে সংরক্ষণের নিয়ম। চলুন, তাহলে শুরু করা যাক।
নিচের যে অংশ থেকে পড়তে চান, ক্লিক করুন
- নারিকেল নাড়ু কেমন মিষ্টি?
- নারিকেল নাড়ু বানাতে কী কী উপকরণ লাগবে?
- নারিকেল কীভাবে প্রস্তুত করবেন?
- গুড়ের নারিকেল নাড়ু বানানোর নিয়ম
- চিনির নারিকেল নাড়ু বানানোর নিয়ম
- ধাপে ধাপে নারিকেল নাড়ু বানানোর নিয়ম
- নারিকেল নাড়ু নরম রাখার গোপন উপায়
- নারিকেল নাড়ু সংরক্ষণের নিয়ম
- আমাদের শেষ কথা
- নারিকেল নাড়ুর পুষ্টিগুণ
- নারিকেল নাড়ুর বিভিন্ন রকম
- নারিকেল নাড়ু বানানোর সময় সাধারণ ভুল
নারিকেল নাড়ু কেমন মিষ্টি?
নারিকেল নাড়ু হলো বাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি মিষ্টি, যা বিশেষ করে শীতকালে বেশি বানানো হয়। নারিকেলের কুরানো অংশের সঙ্গে গুড় বা চিনি মিশিয়ে গোল গোল করে বানানো এই নাড়ু মুখে দিলেই মিষ্টি আর নারিকেলের সুবাস একসঙ্গে মিশে যায়। শীতের পিঠা-পুলির অনুষ্ঠানে, পৌষ পার্বণে, কিংবা স্রেফ সন্ধ্যার চায়ের সঙ্গে — নারিকেল নাড়ু সব সময়ই দারুণ মানিয়ে যায়।
নারিকেল নাড়ুর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর নরমতা। ভালো নাড়ু মুখে দিলে শক্ত মনে হবে না, বরং নরম হয়ে গলে যাবে। অনেকের নাড়ু শক্ত হয়ে যাওয়ার কারণ হলো বেশি সময় ধরে রান্না করা বা গুড়ের পরিমাণ ঠিক না হওয়া। এই আর্টিকেলে আমরা সেই সব ভুল এড়ানোর উপায় বিস্তারিতভাবে বলবো।
নারিকেল নাড়ু শুধু স্বাদের জন্য নয়, পুষ্টির দিক থেকেও ভালো। নারিকেলে আছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার আর বিভিন্ন খনিজ উপাদান। তবে এতে চিনি বা গুড় থাকে, তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। দিনে ২-৩টি নাড়ু খেলে স্বাদও পাবেন, আবার শরীরের ক্ষতিও হবে না।
নারিকেল নাড়ু বানাতে কী কী উপকরণ লাগবে?
নারিকেল নাড়ু বানাতে খুব বেশি উপকরণ লাগে না। নিচে ২টি মাঝারি নারিকেল দিয়ে প্রায় ২০-২৫টি নাড়ু বানানোর উপকরণের তালিকা দেওয়া হলো।
- নারিকেল — ২টি মাঝারি আকারের (কুরানো, প্রায় ৩ কাপ)
- খেজুরের গুড় — ১ কাপ (অথবা চিনি ১ কাপ)
- এলাচ গুঁড়া — আধা চা চামচ
- ঘি — ১ টেবিল চামচ
- দুধ — ২ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক, নাড়ু নরম রাখতে সাহায্য করে)
- কাজু বাদাম কুচি — ২ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)
- কিসমিস — ১ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)
- লবণ — এক চিমটি
উপকরণ কেনার সময় নারিকেলের দিকে বিশেষ নজর দিন। নারিকেল যেন একদম তাজা আর ভারী হয়। হালকা নারিকেলে পানি কম থাকে আর শাঁসও কম হয়। নারিকেল ঝাঁকিয়ে দেখুন — ভেতরে পানির শব্দ শোনা গেলে বুঝবেন নারিকেলটা ভালো। আর খেজুরের গুড়ের ক্ষেত্রে খাঁটি গুড় ব্যবহার করুন, কারণ ভেজাল গুড়ে নাড়ুর স্বাদ একদম নষ্ট হয়ে যায়।
নারিকেল কীভাবে প্রস্তুত করবেন?
নারিকেল কুরানোই নাড়ু বানানোর প্রথম কাজ। নারিকেল ফাটিয়ে ভেতরের শাঁস বের করে নিন। তারপর কুরুনি দিয়ে মিহি করে কুরিয়ে নিন। কুরানোর সময় খেয়াল রাখবেন, নারিকেলের বাদামি খোসাটা যেন না মেশে। খোসা মিশে গেলে নাড়ুর রং খারাপ হয়ে যায় আর স্বাদেও তেতো ভাব আসে।
কুরানো নারিকেলের পরিমাণ মেপে নিন। ২টি মাঝারি নারিকেল থেকে সাধারণত ৩ কাপের মতো কুরানো নারিকেল পাওয়া যায়। এই পরিমাণ দিয়েই ২০-২৫টি মাঝারি আকারের নাড়ু বানানো যায়। নারিকেল কুরানোর পর বেশিক্ষণ ফেলে রাখবেন না, কারণ তাজা নারিকেলের গন্ধটাই নাড়ুর আসল প্রাণ।
গুড়ের নারিকেল নাড়ু বানানোর নিয়ম
গুড়ের নারিকেল নাড়ু হলো সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী আর সুস্বাদু সংস্করণ। খেজুরের গুড়ের গাঢ় মিষ্টি গন্ধ আর নারিকেলের মিলে এমন একটা স্বাদ তৈরি হয়, যা চিনির নাড়ুতে পাওয়া যায় না। শীতকালে খেজুরের গুড় সহজে পাওয়া যায় বলে এই সময়ে গুড়ের নাড়ুই বেশি বানানো হয়।
গুড়ের নাড়ু বানানোর সময় গুড়ের পরিমাণটা ঠিক রাখা খুব জরুরি। ৩ কাপ কুরানো নারিকেলের জন্য ১ কাপ গুড় যথেষ্ট। গুড় বেশি দিলে নাড়ু খুব মিষ্টি হয়ে যাবে আর নরম হয়ে ভেঙে যাবে। আবার গুড় কম দিলে নাড়ুর গায়ে গুড়ের সেই সুন্দর বাদামি রং আসবে না। তাই পরিমাণটা মেনে চলুন।
গুড় ব্যবহারের আগে সেটা ছোট ছোট টুকরো করে নিন। গুড়ে অনেক সময় বালি বা ময়লা থাকে, তাই গুড় ভেঙে নিলে সেগুলো চোখে পড়ে। প্রয়োজনে গুড় সামান্য পানি দিয়ে গলিয়ে ছেঁকে নিতে পারেন। এতে নাড়ুতে কোনো ময়লা থাকবে না।
চিনির নারিকেল নাড়ু বানানোর নিয়ম
যারা গুড় পছন্দ করেন না, তারা চিনি দিয়ে নাড়ু বানাতে পারেন। চিনির নাড়ু দেখতে সাদা হয় আর স্বাদটাও একটু হালকা হয়। গুড়ের নাড়ুর তুলনায় চিনির নাড়ু একটু বেশি দিন ভালো থাকে।
চিনির নাড়ু বানানোর সময় ৩ কাপ নারিকেলের জন্য ১ কাপ চিনি ব্যবহার করুন। চিনি গলতে একটু বেশি সময় লাগে, তাই ধৈর্য ধরে মাঝারি আঁচে নাড়াচাড়া করুন। চিনির নাড়ুতে এক চিমটি লবণ দিলে মিষ্টির স্বাদটা আরও ভালোভাবে ফুটে ওঠে।
চিনির নাড়ুতে আপনি চাইলে সামান্য ভ্যানিলা এসেন্স বা কেওড়া জল দিতে পারেন। তবে ঐতিহ্যবাহী স্বাদ চাইলে শুধু এলাচ গুঁড়াই যথেষ্ট। এলাচের হালকা গন্ধ নারিকেল নাড়ুকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়।
ধাপে ধাপে নারিকেল নাড়ু বানানোর নিয়ম
ধাপ ১: কড়াই গরম করা
প্রথমে একটি ভারী তলার কড়াই চুলায় বসান। কড়াইতে ১ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে মাঝারি আঁচে গরম করুন। ঘি গরম হলে কুরানো নারিকেল দিয়ে দিন।
ধাপ ২: নারিকেল ভাজা
নারিকেল ৩-৪ মিনিট ধরে মাঝারি আঁচে নাড়াচাড়া করুন। নারিকেল থেকে হালকা গন্ধ বের হতে শুরু করলে বুঝবেন এটা তৈরি। নারিকেল বেশি ভাজবেন না, তাহলে নারিকেলের তেল বের হয়ে যাবে আর নাড়ু শুকিয়ে যাবে।
ধাপ ৩: গুড় বা চিনি মেশানো
এবার গুড়ের টুকরো বা চিনি দিয়ে দিন। ভালো করে নাড়াচাড়া করুন। গুড় গলতে শুরু করলে মিশ্রণটি আঠালো হতে থাকবে। এই সময়ে চুলার আঁচ কমিয়ে দিন, যাতে মিশ্রণ পুড়ে না যায়।
ধাপ ৪: ঘন হওয়া পর্যন্ত রান্না
মিশ্রণটি ১০-১২ মিনিট ধরে নাড়াচাড়া করুন। যখন মিশ্রণ কড়াইয়ের গা ছেড়ে আসতে শুরু করবে আর এক জায়গায় জমাট বাঁধবে, তখন বুঝবেন নাড়ু বানানোর সময় হয়েছে। এই ধাপে এলাচ গুঁড়া, কাজু বাদাম কুচি আর কিসমিস দিয়ে দিন।
ধাপ ৫: নাড়ু গড়া
মিশ্রণটি চুলা থেকে নামিয়ে একটু ঠান্ডা হতে দিন। খুব গরম অবস্থায় নাড়ু গড়তে যাবেন না, হাত পুড়ে যাবে। আবার একদম ঠান্ডা হয়ে গেলেও নাড়ু গড়া যাবে না, কারণ মিশ্রণ শক্ত হয়ে যাবে। হালকা গরম থাকা অবস্থায় হাতে একটু ঘি মাখিয়ে গোল গোল করে নাড়ু গড়ে নিন। প্রতিটা নাড়ু প্রায় একই আকারের রাখার চেষ্টা করুন, দেখতে সুন্দর লাগবে।
নাড়ু গড়া হয়ে গেলে একটি প্লেটে সাজিয়ে রাখুন। ঠান্ডা হলে নাড়ু আরও জমাট বাঁধবে। ব্যস, আপনার নারিকেল নাড়ু তৈরি!
নারিকেল নাড়ু নরম রাখার গোপন উপায়
নারিকেল নাড়ু শক্ত হয়ে যাওয়া সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা। নিচের টিপসগুলো মানলে আপনার নাড়ু সবসময় নরম থাকবে।
- মিশ্রণটি বেশি সময় ধরে রান্না করবেন না। কড়াইয়ের গা ছাড়লেই চুলা থেকে নামিয়ে নিন। বেশি রান্না করলেই নাড়ু শক্ত হয়।
- রান্নার সময় ২ টেবিল চামচ দুধ দিলে নাড়ু অনেক নরম হয়। দুধের ফ্যাট নাড়ুকে আর্দ্র রাখে।
- নারিকেল বেশি ভাজবেন না। নারিকেলের নিজের তেল বেরিয়ে গেলে নাড়ু শুকিয়ে যায়।
- নাড়ু গড়ার সময় হাতে ঘি মাখিয়ে নিন। এতে নাড়ুর গায়ে ঘিয়ের একটা আবরণ পড়ে, নাড়ু নরম থাকে।
- গুড়ের পরিমাণ ঠিক রাখুন। গুড় কম হলে নাড়ু শক্ত হয়ে যায়।
- নাড়ু বানানোর পর বাতাসে খোলা রাখবেন না। ঠান্ডা হলেই ঢাকনাওয়ালা বাক্সে ভরে রাখুন।
নারিকেল নাড়ু সংরক্ষণের নিয়ম
নারিকেল নাড়ু সাধারণত ৭-১০ দিন ভালো থাকে। সংরক্ষণের নিয়ম জেনে নিন।
- নাড়ু ঠান্ডা হওয়ার পর বাতাসরোধী বাক্সে ভরে রাখুন। খোলা জায়গায় রাখলে নাড়ু শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়।
- বাক্সটি ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায় রাখুন। ফ্রিজে রাখলে নাড়ু ২ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে, তবে খাওয়ার আগে ১৫-২০ মিনিট বাইরে রেখে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনুন।
- নাড়ুর বাক্সে এক টুকরো শুকনো নারিকেলের খোসা রাখলে নাড়ু নরম থাকে — এটা দাদিদের পুরনো কৌশল।
- ভেজা হাতে নাড়ু তুলবেন না। ভেজা হাতের ছোঁয়ায় নাড়ুতে ছত্রাক ধরতে পারে।
নারিকেল নাড়ু পরিবেশনের সময় প্লেটে সুন্দর করে সাজিয়ে দিন। চায়ের সঙ্গে, কিংবা পিঠা-পুলির অনুষ্ঠানে নাড়ু পরিবেশন করলে সবাই খুশি হবে।
আরও দেখুন: শীতের আরেক জনপ্রিয় মিষ্টি ভাপা পিঠার রেসিপি জানতে আমাদের অন্য পোস্টটি দেখুন। আর মুরগির মাংসের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে পড়ুন — ১০০ গ্রাম মুরগির মাংসে কত প্রোটিন – সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬
নারিকেল নাড়ু খাওয়ার সুবিধা
- শীতের পিঠা-পুলির অনুষ্ঠানে সবার প্রিয় মিষ্টি।
- ঘরে বানানো নাড়ুতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে না।
- নারিকেলে ফাইবার আর স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আছে।
- বাচ্চা থেকে বড় — সবাই খেতে পারে।
নারিকেল নাড়ু খাওয়ার অসুবিধা
- চিনি বা গুড় থাকে, তাই ডায়াবেটিস থাকলে পরিমিত খেতে হবে।
- নারিকেলে ফ্যাট বেশি, তাই বেশি খাওয়া উচিত নয়।
- বেশিদিন রাখলে নাড়ু শক্ত হয়ে যায়।
নারিকেল নাড়ুর বিভিন্ন রকম
নারিকেল নাড়ু শুধু এক রকমের হয় না। উপকরণ আর স্বাদের পছন্দ অনুযায়ী নারিকেল নাড়ুর অনেক রকম আছে। নিচে জনপ্রিয় কয়েকটি রকমের কথা বলা হলো।
চালের গুঁড়ার নারিকেল নাড়ু
এই নাড়ুতে কুরানো নারিকেলের সঙ্গে ভাজা চালের গুঁড়া মেশানো হয়। চালের গুঁড়া দেওয়ার কারণে নাড়ুটা একটু শক্ত হয় আর খেতে মুচমুচে লাগে। ৩ কাপ নারিকেলের জন্য আধা কাপ ভাজা চালের গুঁড়া দিলেই যথেষ্ট। এই নাড়ু বেশিদিন ভালো থাকে, তাই অনেকে এই রকমটাই বেশি পছন্দ করেন।
তিলের নারিকেল নাড়ু
নারিকেলের সঙ্গে ভাজা তিল মিশিয়ে বানানো নাড়ুর স্বাদ একদম আলাদা। তিলের হালকা বাদামি গন্ধ আর নারিকেলের মিষ্টি মিলে দারুণ একটা স্বাদ তৈরি হয়। তিল ভাজার সময় চুলার আঁচ কম রাখবেন, যাতে তিল পুড়ে না যায়। ৩ কাপ নারিকেলের জন্য ২ টেবিল চামচ ভাজা তিল দিলেই হবে।
দুধের নারিকেল নাড়ু
দুধ দিয়ে বানানো নারিকেল নাড়ু হয় সবচেয়ে নরম। এই নাড়ুতে গুড় বা চিনির সঙ্গে আধা কাপ ঘন দুধ দেওয়া হয়। দুধের কারণে নাড়ু অনেক দিন নরম থাকে আর স্বাদও হয় আরও মিষ্টি। তবে দুধের নাড়ু ফ্রিজে রাখতে হয়, না হলে তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।
চকলেট নারিকেল নাড়ু
বাচ্চাদের জন্য চকলেট নারিকেল নাড়ু খুব জনপ্রিয়। এই নাড়ুতে কোকো পাউডার মেশানো হয়। ৩ কাপ নারিকেলের জন্য ২ টেবিল চামচ কোকো পাউডার দিলেই নাড়ুর রং আর স্বাদ দুটোই বদলে যায়। চকলেট নাড়ুর ওপরে চকলেট চিপস ছড়িয়ে দিলে দেখতে আরও সুন্দর লাগে।
নারিকেল নাড়ু বানানোর সময় সাধারণ ভুল
অনেকেই নারিকেল নাড়ু বানানোর সময় কিছু সাধারণ ভুল করে ফেলেন, যার ফলে নাড়ু শক্ত হয়ে যায় বা ভেঙে যায়। এই ভুলগুলো জেনে রাখলে আপনার নাড়ু সবসময় নরম আর সুন্দর হবে।
- মিশ্রণ বেশি সময় ধরে রান্না করা: নাড়ু শক্ত হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো বেশি সময় ধরে রান্না করা। মিশ্রণ কড়াইয়ের গা ছাড়লেই চুলা থেকে নামিয়ে নিন।
- নারিকেল বেশি ভাজা: নারিকেল বেশি ভাজলে তার নিজের তেল বের হয়ে যায় আর নাড়ু শুকিয়ে যায়। নারিকেল ৩-৪ মিনিটের বেশি ভাজবেন না।
- গুড়ের পরিমাণ কম দেওয়া: গুড় কম হলে মিশ্রণ আঠালো হয় না আর নাড়ু শক্ত হয়ে যায়। ৩ কাপ নারিকেলের জন্য ১ কাপ গুড় ঠিক রাখুন।
- ঠান্ডা মিশ্রণে নাড়ু গড়া: মিশ্রণ একদম ঠান্ডা হয়ে গেলে নাড়ু গড়া যায় না। হালকা গরম থাকা অবস্থায় নাড়ু গড়ে নিন।
- নারিকেলের খোসা মেশানো: নারিকেল কুরানোর সময় বাদামি খোসা মিশে গেলে নাড়ুর রং খারাপ হয় আর স্বাদে তেতো ভাব আসে। খোসা ছাড়িয়ে কুরান।
- নাড়ু খোলা জায়গায় রাখা: নাড়ু বানানোর পর বাতাসে খোলা রাখলে সেটা শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়। ঠান্ডা হলেই ঢাকনাওয়ালা বাক্সে ভরে রাখুন।
নারিকেল নাড়ুর পুষ্টিগুণ
নারিকেল নাড়ু শুধু মিষ্টি নয়, এতে বেশ কিছু পুষ্টিগুণও আছে। নারিকেলে আছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যা শরীরের জন্য উপকারী। এছাড়া নারিকেলে ফাইবার থাকে, যা হজমে সাহায্য করে। নারিকেলে আরও আছে ম্যাঙ্গানিজ, কপার আর আয়রনের মতো খনিজ উপাদান।
খেজুরের গুড়ে আছে আয়রন, যা রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। চিনির তুলনায় গুড়ে কিছুটা হলেও খনিজ উপাদান বেশি থাকে, তাই গুড়ের নাড়ু চিনির নাড়ুর চেয়ে একটু বেশি উপকারী। তবে মনে রাখবেন, গুড়েও চিনির মতো ক্যালোরি থাকে, তাই বেশি খাওয়া উচিত নয়।
যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের নারিকেল নাড়ু পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। দিনে ১-২টি নাড়ু খেলে কোনো সমস্যা হয় না, তবে তার বেশি খাওয়া ঠিক নয়। আর যারা ওজন কমাতে চান, তারা নাড়ুর পরিমাণ একটু কম রাখুন। বাচ্চাদের জন্য নারিকেল নাড়ু ভালো, কারণ এতে প্রাকৃতিক উপকরণ থাকে আর কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে না।
নারিকেল নাড়ু নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
প্রশ্ন: নারিকেল নাড়ু কেন শক্ত হয়ে যায়?
উত্তর: মিশ্রণ বেশি সময় ধরে রান্না করলে বা গুড়ের পরিমাণ কম হলে নাড়ু শক্ত হয়ে যায়। কড়াইয়ের গা ছাড়লেই চুলা থেকে নামিয়ে নিন, আর রান্নার সময় ২ টেবিল চামচ দুধ দিলে নাড়ু নরম থাকবে।
প্রশ্ন: নারিকেল নাড়ু কতদিন ভালো থাকে?
উত্তর: বাতাসরোধী বাক্সে রাখলে ৭-১০ দিন ভালো থাকে। ফ্রিজে রাখলে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে।
প্রশ্ন: গুড়ের বদলে চিনি দিয়ে নাড়ু বানানো যাবে?
উত্তর: অবশ্যই যাবে। চিনির নাড়ু সাদা হয় আর একটু বেশি দিন ভালো থাকে। তবে গুড়ের নাড়ুর স্বাদ আর গন্ধ একটু বেশি ঐতিহ্যবাহী হয়।
প্রশ্ন: নাড়ু গড়ার সময় মিশ্রণ হাতে লেগে গেলে কী করবো?
উত্তর: হাতে সামান্য ঘি মাখিয়ে নিন। ঘি মাখালে মিশ্রণ হাতে লাগবে না আর নাড়ুও সুন্দর গোল হবে।
আমাদের শেষ কথা
প্রিয় পাঠক, আশা করছি আপনারা সকলে বুঝতে পেরেছেন কীভাবে ঘরে বসে নরম মজাদার নারিকেল নাড়ু বানাতে হয়। সঠিক পরিমাণ, ঠিক সময়ে চুলা থেকে নামানো আর একটু ধৈর্য — এই তিনটেই নরম নাড়ুর গোপন রহস্য। শীতের এই সময়ে তাজা নারিকেল আর খেজুরের গুড় সহজেই পাওয়া যায়, তাই আজই বানিয়ে ফেলুন আপনার পরিবারের জন্য নারিকেল নাড়ু।
আপনার বানানো নাড়ু কেমন হলো, সেটা আমাদের জানাতে ভুলবেন না। আর নিয়মিত নতুন রেসিপি আর আপডেট পেতে আমাদের সাইটে চোখ রাখুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন আর শীতের মিষ্টি খেয়ে মজা করুন।

বাংলা আইটিটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url