সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) — আবেদন, যোগ্যতা ও প্রস্তুতি

বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে চাকরি প্রত্যাশীদের মধ্যে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আলোচনা সবচেয়ে বেশি। প্রতিবছর লাখ লাখ তরুণ-তরুণী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেন, কারণ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হওয়ার জন্য এনটিআরসিএ (NTRCA)-এর নিবন্ধন সনদ অপরিহার্য। অনেকেই জানতে চান, সহকারী শিক্ষক নিয়োগের আবেদন কবে হবে? যোগ্যতা কী লাগবে? পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন? এই আর্টিকেলে আমরা এনটিআরসিএ সম্পর্কে, পরীক্ষার ধাপ, ৭ম গণবিজ্ঞপ্তির ফলাফল এবং ৯ম নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থাসহ সবকিছু সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করবো। তাই পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

 

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) — আবেদন, যোগ্যতা ও প্রস্তুতি

এনটিআরসিএ (NTRCA) কী?

এনটিআরসিএ-এর পূর্ণরূপ হলো বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (Non-Government Teachers' Registration and Certification Authority)। এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান, যা ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ হলো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের নিবন্ধন পরীক্ষা নেওয়া এবং সনদ দেওয়া।

এনটিআরসিএ এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে। অর্থাৎ, আপনি যদি বেসরকারি কোনো স্কুল বা কলেজে শিক্ষক হতে চান, তাহলে প্রথমে এনটিআরসিএ-এর নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সনদ অর্জন করতে হবে। এরপর গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেতে হবে।

সহকারী শিক্ষক পদটি বেসরকারি স্কুলের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পদের মধ্যে একটি। প্রতিবছর হাজার হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ খালি থাকে। তাই এই পদে চাকরি পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা থাকলেও সুযোগও অনেক। এনটিআরসিএ-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হলো ntrca.gov.bd। নিয়োগ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত দেখা উচিত।

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ৩টি ধাপ

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা মোট ৩টি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। সনদ পেতে হলে আপনাকে তিনটি ধাপেই উত্তীর্ণ হতে হবে। নিচে প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হলো।

প্রথমত, প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এটি একটি এমসিকিউ (বহুনির্বাচনি) পরীক্ষা, যার পূর্ণমান ১০০ নম্বর এবং সময় ১ ঘণ্টা। এই পরীক্ষায় ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যায়। প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হতে হলে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হয়, অর্থাৎ ১০০ নম্বরের মধ্যে অন্তত ৪০ নম্বর পেতে হবে।

দ্বিতীয়ত, লিখিত পরীক্ষা। প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০ নম্বর এবং সময় ৩ ঘণ্টা। এই পরীক্ষাটি বিষয়ভিত্তিক হয়, অর্থাৎ আপনি যে বিষয়ের শিক্ষক হতে চান, সেই বিষয়ের উপর পরীক্ষা দিতে হয়।

তৃতীয়ত, মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ভাইভায় ডাকা হয়। তিনটি ধাপেই উত্তীর্ণ হলে আপনি নিবন্ধন সনদ পাবেন। এরপর এনটিআরসিএ সনদধারীদের মধ্য থেকে শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো — ২০২৬ সালের ৩ আগস্ট সরকার একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে দেওয়া হবে। তবে ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সরকার সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে। ফলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব এনটিআরসিএ-এর হাতেই রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমেই হবে।

৭ম গণবিজ্ঞপ্তি — কী হয়েছিল?

সহকারী শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য ৭ম বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে। এই গণবিজ্ঞপ্তিতে মোট ৬৭,২০৮টি পদের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজের পদ ছিল ২৯,৫৭১টি, মাদরাসার পদ ছিল ৩৬,৮০৪টি এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পদ ছিল ৮৩৩টি।

৭ম গণবিজ্ঞপ্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। আবেদনের ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি। ফলাফলে মোট ১১,৭১৩ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। তবে ৫৫,৪৯৫টি পদ শূন্য থেকে যায়, অর্থাৎ ওই পদগুলোর জন্য পর্যাপ্ত প্রার্থী পাওয়া যায়নি।

এই গণবিজ্ঞপ্তিতে বয়সসীমা ছিল সর্বোচ্চ ৩৫ বছর। ২০২৫ সালের ৪ জুন তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩৫ বছর হতে হবে — এমন শর্ত ছিল। এই তথ্য থেকে বোঝা যায় যে বয়সসীমার বিষয়টি প্রতিটি গণবিজ্ঞপ্তিতে আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়। তাই পরবর্তী গণবিজ্ঞপ্তিতে বয়সসীমা কী হবে, তা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই জানা যাবে।

৭ম গণবিজ্ঞপ্তির ফলাফল থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়েছে — অনেক পদ শূন্য থেকে গেছে। এর কারণ হতে পারে যে অনেক বিষয়ে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা কম ছিল, অথবা অনেক প্রার্থী পছন্দের প্রতিষ্ঠান না পেয়ে আবেদন করেননি। তাই যারা ভবিষ্যতে আবেদন করবেন, তাদের জন্য সুযোগ রয়েছে — বিশেষ করে যেসব বিষয়ে শূন্য পদ বেশি, সেসব বিষয়ের প্রার্থীদের জন্য।

৯ম নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা

৯ম নিয়োগের জন্য ই-রিকুইজিশন সংগ্রহ করা হয়েছিল ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। এই ই-রিকুইজিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শূন্য পদের চাহিদা সংগ্রহ করা হয়। মোট চাহিদা ছিল ৭৭,৭৯৯টি পদের। এর মধ্যে সহকারী শিক্ষকের পদ ছিল ৪৪,৬৯১টি, যা মোট চাহিদার প্রায় ৫৭ শতাংশ।

চাহিদা যাচাই-বাছাইয়ের পর মোট ৭৫,৭৬৯টি পদ চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬,০০০টি পদ ১৮তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে নতুন প্রার্থীদের জন্য প্রায় ৬৯,৫৭৭টি পদ থাকার কথা। তবে এখানে একটি কথা মনে রাখা জরুরি — এই সংখ্যাগুলো চাহিদার হিসাব, চূড়ান্ত শূন্য পদের সংখ্যা নয়। গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময়ই চূড়ান্ত পদের সংখ্যা জানা যাবে।

২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত ৯ম নিয়োগের কোনো গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত আবেদন শুরু হয়নি। অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ নিয়ে নানা কথা শুনছেন, তবে অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো তারিখই নিশ্চিত নয়। তাই নিয়মিত ntrca.gov.bd ওয়েবসাইট দেখুন এবং অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করুন।

কোন বিষয়ে সুযোগ বেশি?

সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সব বিষয়ের সুযোগ একরকম নয়। ৯ম নিয়োগের চাহিদার হিসাবে দেখা গেছে, মোট ৭৭,৭৯৯টি পদের মধ্যে সহকারী শিক্ষকের পদই ছিল ৪৪,৬৯১টি — অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় ৫৭ শতাংশ। এ থেকে বোঝা যায়, সহকারী শিক্ষক পদেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শূন্য পদ রয়েছে। তাই যারা সহকারী শিক্ষক হতে চান, তাদের জন্য সুযোগ সবচেয়ে বেশি।

৭ম গণবিজ্ঞপ্তির অভিজ্ঞতা থেকেও একটি শিক্ষা পাওয়া যায়। সেখানে ৬৭,২০৮টি পদের মধ্যে মাত্র ১১,৭১৩ জন সুপারিশ পেয়েছিলেন এবং ৫৫,৪৯৫টি পদ শূন্য থেকে গিয়েছিল। এর অর্থ হলো, অনেক বিষয়ে যোগ্য প্রার্থীর অভাব ছিল। তাই যেসব বিষয়ে প্রার্থী কম, সেসব বিষয়ের প্রার্থীদের জন্য সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। আপনার বিষয়ে শূন্য পদ কত, তা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর জানা যাবে। তখন সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

তবে একটি কথা মনে রাখবেন — শুধু শূন্য পদ বেশি দেখে বিষয় বেছে নেওয়া ঠিক নয়। আপনার নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী যে বিষয়ে আপনি আবেদনের যোগ্য, সেই বিষয়েই আবেদন করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিটি পদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ থাকে। তাই নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে আবেদন করুন।

বিজ্ঞপ্তির খোঁজ কীভাবে রাখবেন?

অনেকেই জানতে চান, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের খবর কীভাবে পাবেন? সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো এনটিআরসিএ-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ntrca.gov.bd নিয়মিত দেখা। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে সেখানেই প্রথমে জানানো হয়। এছাড়া আবেদনের সময় টেলিটকের ওয়েবসাইট ngi.teletalk.com.bd-তেও তথ্য পাওয়া যায়।

আরও একটি পরামর্শ হলো — ফেসবুক বা ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া বিজ্ঞপ্তির খবরে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করবেন না। অনেক সময় ভুয়া তারিখ ও ভুয়া বিজ্ঞপ্তির খবর ছড়িয়ে পড়ে। কোনো খবর পেলে সেটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যাচাই করে নিন। অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যা লেখা থাকবে, সেটাই সত্য।

নতুন পরীক্ষার ধরন নিয়ে যা জানা গেছে

পরীক্ষার ধরন পরিবর্তন নিয়ে সংবাদপত্রে কিছু খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব খবরে বলা হয়েছে, নতুন পরীক্ষার ধরনে ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা এবং ২০ নম্বরের ভাইভা থাকতে পারে, আর পাস নম্বর হতে পারে ৪০ শতাংশ। তবে এই তথ্যটি এখনো চূড়ান্ত নয়। এটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর মাত্র, অফিসিয়াল কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।

তাই এই নতুন ধরনকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে ধরে নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া ঠিক হবে না। বর্তমানে যে পরীক্ষার ধরন চালু রয়েছে — প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা — সেই অনুযায়ীই প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। যদি পরীক্ষার ধরন পরিবর্তন হয়, তাহলে এনটিআরসিএ অফিসিয়ালভাবে জানিয়ে দেবে। তখন সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি সাজিয়ে নেওয়া যাবে।

প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন?

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য প্রথমে সিলেবাস সম্পর্কে জানা জরুরি। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাসে সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান — এই চারটি বিষয় থাকে। প্রতিটি বিষয়ে সমান গুরুত্ব দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। কারণ প্রিলিমিনারিতে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হলে সব বিষয়েই মোটামুটি ভালো করতে হয়।

প্রথমত, বাংলা বিষয়ের জন্য বাংলা ব্যাকরণ, সাহিত্য এবং গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের সম্পর্কে পড়ুন। দ্বিতীয়ত, ইংরেজি বিষয়ের জন্য গ্রামার, ভোকাবুলারি এবং কমপ্রিহেনশনের উপর জোর দিন। তৃতীয়ত, গণিতের জন্য মৌলিক গণিতের চর্চা করুন — শতকরা, লাভ-ক্ষতি, গড়, অনুপাত — এমন মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করুন। চতুর্থত, সাধারণ জ্ঞানের জন্য বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়, ইতিহাস, ভূগোল এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে পড়ুন।

লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আপনার নিজের বিষয়ের উপর গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আপনি যে বিষয়ের শিক্ষক হতে চান, সেই বিষয়ের পাঠ্যবইগুলো ভালোভাবে পড়ুন। বিগত বছরের প্রশ্নপত্র দেখে প্রশ্নের ধরন বুঝে নিন। লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে হলে নিয়মিত লেখার চর্চা করা জরুরি।

ভাইভার প্রস্তুতির জন্য নিজের বিষয় সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলার চর্চা করুন। ভাইভায় সাধারণত আপনার বিষয়, শিক্ষকতা সম্পর্কে আপনার ধারণা এবং সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। নিজের সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে বলতে পারা এবং বিনয়ী আচরণ ভাইভায় ভালো করতে সাহায্য করে।

প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো — নিয়মিত পড়াশোনা করুন। প্রতিদিন অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা পড়াশোনার জন্য সময় দিন। বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে সেগুলো সমাধান করুন। এতে করে পরীক্ষার ধরন সম্পর্কে ধারণা পাবেন এবং নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করতে পারবেন।

আবেদন কীভাবে করবেন?

গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে আবেদন করতে হয় টেলিটকের মাধ্যমে। আবেদনের ওয়েবসাইট হলো ngi.teletalk.com.bd। আবেদন করার সময় আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ছবি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য হাতের কাছে রাখুন। আবেদন ফি জমা দিতে হয় টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে।

আবেদন করার সময় কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকুন। প্রথমত, আবেদন ফরমে সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন। দ্বিতীয়ত, পছন্দের প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের সময় সতর্ক থাকুন — কারণ সুপারিশের ক্ষেত্রে আপনার পছন্দের ক্রম গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয়ত, আবেদনের শেষ তারিখের আগেই আবেদন সম্পন্ন করুন, শেষ মুহূর্তে সার্ভারের সমস্যা হতে পারে। চতুর্থত, আবেদন সম্পন্ন করার পর আবেদনের কপি সংরক্ষণ করে রাখুন।

একটি কথা মনে রাখবেন — বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগ পর্যন্ত আবেদনের তারিখ, ফি বা যোগ্যতা সম্পর্কে কোনো তথ্যই চূড়ান্ত নয়। বিজ্ঞপ্তিতে যা লেখা থাকবে, সেটাই চূড়ান্ত। তাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সেটি ভালোভাবে পড়ে তারপর আবেদন করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: এনটিআরসিএ (NTRCA) কী?
উত্তর: এনটিআরসিএ হলো বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ। এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান, যা ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে।

প্রশ্ন: শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় কয়টি ধাপ থাকে?
উত্তর: মোট ৩টি ধাপ — প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ, ১০০ নম্বর, ১ ঘণ্টা, ৪০ শতাংশ পাস), লিখিত (১০০ নম্বর, ৩ ঘণ্টা, বিষয়ভিত্তিক) এবং ভাইভা। তিন ধাপেই উত্তীর্ণ হলে সনদ পাওয়া যায়।

প্রশ্ন: প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং আছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যায়। তাই অনুমানের ভিত্তিতে উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।

প্রশ্ন: ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে কতজন সুপারিশ পেয়েছিলেন?
উত্তর: ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে মোট ৬৭,২০৮টি পদের বিপরীতে ১১,৭১৩ জন প্রার্থীকে সুপারিশ করা হয়েছিল। ৫৫,৪৯৫টি পদ শূন্য থেকে যায়।

প্রশ্ন: ৯ম নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি কি প্রকাশিত হয়েছে?
উত্তর: না, ২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত ৯ম নিয়োগের কোনো গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে ntrca.gov.bd-তে পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন: আবেদন কোথায় করতে হয়?
উত্তর: আবেদন করতে হয় টেলিটকের ওয়েবসাইট ngi.teletalk.com.bd-এর মাধ্যমে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সেখানে আবেদনের নির্দেশনা দেওয়া থাকে।

আমাদের শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আশা করছি আপনারা সকলে বুঝতে পেরেছেন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) সম্পর্কে — এনটিআরসিএ কী, পরীক্ষার ৩টি ধাপ কেমন, ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে কী হয়েছিল এবং ৯ম নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা কী। সহকারী শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন যাদের, তাদের জন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার সেরা সময়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অপেক্ষায় বসে না থেকে এখন থেকেই পড়াশোনা শুরু করুন।

একটি কথা মনে রাখবেন — বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ, পরীক্ষার তারিখ বা চূড়ান্ত পদের সংখ্যা সম্পর্কে অফিসিয়াল ঘোষণা ছাড়া কোনো তথ্যই নিশ্চিত নয়। তাই গুজবে কান দেবেন না, নিয়মিত ntrca.gov.bd ওয়েবসাইট দেখুন। আর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান — এই চারটি বিষয়ে নিয়মিত চর্চা করুন। ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলতা আসবেই।

 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বাংলা আইটিটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url