সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার ফজিলত- রাসুল সাঃ সোমবার কেন রোজা রাখতেন
সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার ফজিলত কি? সোমবার ও বৃহস্পতিবার কেন রোজা রাখা হয় আর সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার নিয়ম কি?? সেই সকল বিষয় নিয়ে এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে সাথে আরো জানব রাসুল সাঃ সোমবার কেন রোজা রাখতেন??
যারা প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোজা রাখেন তারা আজকের এই পোস্টটি দেখে নিন কেন সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোজা রাখতে হবে আর সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার ফজিলত কি সাথেই সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার নিয়ম কি সে সকল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত এবার আমরা জানবো।
ভূমিকা
প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা ইসলামে নফল রোজা কিংবা ঐচ্ছিক ইবাদত হিসেবে পরিচিত এটি ফরজ নয় কিন্তু একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। প্রতি সোমবার এবং বৃহস্পতিবার এ রোজা রাখলে অনেক সোওয়াব পাওয়া যায় এছাড়াও এখন বিজ্ঞান বলে রোজা রাখার শাস্তির জন্য খুবই উপকারী রোজার সময় খাবার কম খাওয়া হয়।
এতে হজমের অঙ্গগুলি বিশ্রাম নাই শরীরে গ্লুকোজ আর ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে এছাড়াও এটি ফ্যাট মেটাবলিজম উন্নত হয় ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এজন্য প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোজা রাখুন এতে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে পাশাপাশি অনেক ফজিলত লাভ করবেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার নিয়ম ।
সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার নিয়ম
অনেকেই জিজ্ঞাসা করে সোমবার ও বৃহস্পতি বারে রোজা রাখার নিয়ম কি?? ফরজ রোজার মত সেহরি খেতে হবে? রোজা অবশ্যই রোজার মতো করে পালন করতে হবে নফল রোজা এবং ফরজ রোজার আলাদা নিয়ম ব্যাপারটা কিন্তু এমন নয়। ফরজ রোজায় যেমন আমরা প্রতিদিন ভরে ওঠে সেহরি গ্রহণ করি।
ঠিক একইভাবে নফল রোজার ক্ষেত্রেও ভোর হওয়ার আগ পর্যন্ত অর্থাৎ আজানের আগে সেহরি খেয়ে নিতে হবে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ এটি আমাদের নবীর সুন্নত। আমাদের নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেহরির সময় একটি খেজুর ও পানি পান করতেন। একটি খেজুরে এত পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে যা শরীরের শক্তি উৎপন্ন করতে সাহায্য করবে।
সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার নিয়ম
যদি সোমবারে রোজা রাখা হয় তাহলে রবিবার রাতে ঘুমানোর আগে সেহরি খাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার তুলে রাখতে হবে। তারপর ভোরের আজানের আগে সেহরি খেয়ে নিতে হবে। সেহরি খাওয়া শেষে অবশ্যই নিয়ত করতে হবে।
নুপুররোজা হোক আর ফরজ রোজা নিয়ত করা খুবই জরুরী। নিয়ত না করলে কিন্তু রোজা হবে না। নিয়ত করতে হবে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য। নিচে নিয় ত করার নিয়ম দেখে নিন।
- আমি সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য আজ সোমবার নফল রোজা রাখছি।
- আমি সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য সোমবার নফল রোজার নিয়ত করছি।
- নাওয়াইতু সোয়া মা রোজা সোমবারের নফল রোজা লিল্লাহি তা'আলা
এভাবে নিয়ত করতে পারবেন। নিয়ত করা খুবই সহজ নিজের মন থেকে সুন্দরভাবে সৃষ্টিকর্তার কাছে নিয়ত করুন। আর নিয়ত সব সময় ছোট আর সংক্ষিপ্ত রাখতে হবে মন থেকে সুন্দরভাবে বললেই হবে। কিন্তু রোজার আগে অবশ্যই নিয়ত করতে হবে।
তারপর ফরজ নামাজ আদায় করতে হবে। অনেকেই রয়েছেন রোজা রাখেন কিন্তু নামাজ পড়েন না এটি মোটেও উত্তম না অবশ্যই নামাজ পড়তে হবে। সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা হচ্ছে নফল রোজা এর থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফরজ পালন করা সে ক্ষেত্রে অবশ্যই নামাজ পড়বেন।
ফরজ নামাজ অবশ্যই আদায় করতে হবে তারপর সারাদিন আপনি পানীয় এবং খাবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখবেন। মাগরিবের আজান এরপরে একটি খেজুর কিংবা পানি পান করে রোজা ভাঙতে হবে। রোজা ভাঙ্গার আগে অবশ্যই আর একবার প্রার্থনা করে নিবেন।
এভাবেই মূলত নফল রোজা গুলো পালন করতে হয়। নফল রোজা দুই দিনে হয় সোমবার ও বৃহস্পতিবার। কেউ চাইলে কিন্তু প্রতিদিন নফল রোজা রাখতে পারবে না, নফল রোজা শুধুমাত্র সোমবার ও বৃহস্পতিবারই রাখা হয়। এবার চলুন দেখে আসি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার ফজিলত।
সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার ফজিলত
অনেকেই জানতে চাই সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। তাকে আমরা অনুকরণ করেই প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখি।
সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা ফরজ নয় অর্থাৎ প্রত্যেকে সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই কিন্তু কেউ যদি অতিরিক্ত সব পেতে চায় অতিরিক্ত সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসা লাভ করতে চাই তাহলে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতে পারে।
আমরা সারা দিনের যে কর্মগুলো করি সে কর্মগুলোর একটি রিপোর্ট সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রতিদিন সন্ধ্যায় পৌঁছায় আর সারারাতের কর্মগুলোর রিপোর্ট প্রতিদিন সকালে পৌঁছায়। ঠিক একইভাবে প্রতি সপ্তাহের কর্মকান্ডের রিপোর্টগুলো সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রতি বৃহস্পতিবার পৌঁছায়।
এইজন্য বৃহস্পতিবারে নফল রোজা রাখা খুবই জরুরী তবে সোমবার নফল রোজা রাখা হয় এর কারণ হচ্ছে আমাদের নবীর জন্মদিন হচ্ছে সোমবারে। এইজন্য আমরা আমাদের নবীর উম্মত হিসেবে প্রতি সোমবারে নফল রোজা রাখি। আপনারা প্রত্যেকে চেষ্টা করবেন সপ্তাহে প্রতি সোমবার এবং বৃহস্পতিবার এই দুইদিন নফল রোজা রাখার।
সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার ফজিলত
প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার এ রোজা রাখার ফজিলত অনেক। এই বিষয়ে একটি হাদিস থেকে জানা যায় যে, এই দুইদিন অর্থাৎ সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখলে সৃষ্টিকর্তা তার রহমতের উসিলাতে মুসলমানদেরকে মাফ করেন মুসলমানদের সকল গুনাহ খাতা মাফ করে দেন।
সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসার জন্য সৃষ্টিকর্তার রহমতের জন্য এবং নিজের সকল গুনাহের মাফির জন্য অবশ্যই প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোজা রাখতে হবে। রোজা আল্লাহ তায়ালার জন্য রাখা হয় তাই রোজা আল্লাহর একটি প্রিয় ইবাদত।
রোজা হচ্ছে বান্দাদের পরীক্ষা। সৃষ্টিকর্তার বান্দারা সৃষ্টিকর্তার জন্য সারাদিন না খেয়ে পানি পান না করে থাকে । এটি সৃষ্টিকর্তার কাছে খুব বড় একটি ইবাদত মনে হয় এজন্য সৃষ্টিকর্তা এই ইবাদতের উসিলাতে আমাদের প্রত্যেকের সকল গুনাহ খাতা মাফ করে দিন।
কেউ কেউ চাইলে প্রতি সপ্তাহে একটা দুইটা কিংবা তিনটা পর্যন্ত রোজা করতে পারে এভাবে মুসলমানরা নিজেদের গুনাহ খাতার সকল মাকে নিতে পারবেন সৃষ্টিকর্তা থেকে। সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে বলে দিয়েছেন তোমরা তোমাদের নিজেদের ইচ্ছা মত চলো।
আমি দুইটি দিক দিয়ে দিয়েছি ভালো এবং খারাপ তুমি চাইলে ভালো দেখে যেতে পারো আবার তুমি চাইলে খারাপ দিকে যেতে পারো। যারা ইসলাম ও হাদিস কে মেনে চলবে তারা অবশ্যই ভালো দিক অনুসরণ করবে। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে তৈরি করেছে মানুষের মধ্যে এতোটুকু বুদ্ধি দিয়েছে তারা ভাল এবং খারাপের মধ্যে বিচার করতে পারবে।
আমাদের নবী বলেন যারা সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখবেন তাদেরকে সৃষ্টিকর্তা এই রোজার উসিলাতে এবং সৃষ্টিকর্তার রহমতের উসিলাতে সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তা গুনহ মাফ করবে না যতক্ষণ না পর্যন্ত কোন মুসলমান সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে তওবা করে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করবে না।
সৃষ্টিকর্তা সম্পর্ক বিচ্ছিন্নকারীকে একদম পছন্দ করে না এবং যারা সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে যারা ভালো সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে তারা যতক্ষণ না পর্যন্ত তওবা করবেন এবং সেই সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করবেন তারা এই ফজিলত থেকে বঞ্চিত হবেন।
তাই প্রিয় মুসলমানগন আপনারা যদি সৃষ্টিকর্তার রহমত পেতে চান যদি সৃষ্টিকর্তার মাফি পেতে চান তাহলে অবশ্যই তওবা করুন স্থাপন করুন আর পরবর্তীতে কারো সাথে কখনো সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন যে,
সোমবার আর বৃহস্পতিবার এই দুই দিনে আল্লাহর নিকট বান্দার সকল আমলগুলো পেশ করা হয়। তাই এই সময় যদি বান্দা রোজা রাখে তাহলে অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা খুশি হবেন এবং তার আমলনামা থেকে সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন এবং ভালো নেকি গুলো গ্রহণ করবেন।
সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার ফজিলত হচ্ছে এই দিনে রোজা রাখলে আপনার সকল গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। সৃষ্টিকর্তার কাছে বেশি বেশি আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করুন বেশি বেশি ইস্তেগফার করুন তাহলে সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই আপনাকে মাফ করে দিবেন।
আমাদের সৃষ্টিকর্তা এত বেশি দয়ালু যে পুরো দুনিয়ার সমান গুনাহ করলেও যদি একবার তোবা পাঠ করেন একবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ে সৃষ্টিকর্তার পথ অনুসরণ করেন তাহলে আপনার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়া মাত্রই সৃষ্টিকর্তা আপনাকে মাফ করে দিবেন এবং আপনার সকল গুনাহকে আপনার নেকিতে রূপান্তরিত করে দিবেন আলহামদুলিল্লাহ।
সৃষ্টিকর্তা বলেন তোর গুনাহ যদি পাহাড়ের থেকেও বেশি বড় হয় যদি এই দুনিয়া থেকেও বেশি বড় হয় তবুও তুই একবার আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ কর,, আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করা মাত্রই আমি তোর সকল গুনাহকে নিজেদের রূপান্তরিত করে দেবো।
আলহামদুলিল্লাহ। আমরা সত্যিই অনেক ভাগ্যবান যার কারণে আমরা এরকম এক ধর্ম নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পেরেছি। আমাদের প্রিয় নবী হিসেবে আমাদের রাসূলকে পেয়েছি। এর থেকে বড় ভাগ্যবান আর কে হয়?
প্রিয় পাঠক আশা করি আপনারা সকলে বুঝতে পেরেছেন সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে। প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখলে আপনার গুনাহ খাতা মাফ হতে শুরু হবে । আপনি যদি প্রতি সোমবার অ বৃহস্পতিবার রোজা রাখেন তাহলে আপনার নেকের পাল্লা সবচেয়ে বেশি হবে।
রাসুল সাঃ সোমবার কেন রোজা রাখতেন
অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন রাসুল সাঃ সোমবার কেন রোজা রাখতেন?? আমাদের প্রিয় নবী সপ্তাহের প্রতি দুই দিন রোজা রাখতেন প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। অনেকেই জানতে চান কেন আমাদের নবী এই সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা তো ফরজ নয় এটি হচ্ছে নফল রোজা।
তবুও আমাদের প্রিয় নবী প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন তিনি খাবার খেতে ভুলে গেলেও এই সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতে কখনোই ভুলে যেতেন না। কারণ এটি ছিল আমাদের প্রিয়নবীর একটি আমল এই দুইদিন রোজা রাখলে সৃষ্টিকর্তা আমাদের সকল মনের আশা গুলো পূরণ করেন এবং আমাদের গুনাহগুলোকে মাফ করে দেন।
আমরা সারা সপ্তাহ থেকে যেই গুনাহ গুলো করে থাকি এই গুনাহ এবং নেকির রিপোর্ট যায় প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবারে তাই আমাদের নবী বলেন এই প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার যদি রোজা রাখা হয় তাহলে এই দিনে সৃষ্টিকর্তার রহমতের উছিলায় আমরা সকল গুনাহের মাফি পেয়ে যাব।
তাই আমাদের প্রিয় নবী এই সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা কে প্রচুর প্রাধান্য দিতেন। তাই আমরা আমাদের নবীকে অনুকরণ করে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখি। আশা করি আপনারা সকলে বুঝতে পেরেছেন কেন আমাদের রাসূল সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন।
সোমবারে রোজা রাখার আরো একটি বিশেষ কারণ হচ্ছে সোমবারে আমাদের নবীর জন্মদিন। তাই এই সোমবারে অবশ্যই আমরা চেষ্টা করব নফল রোজা রাখার। এই সোমবারে আমাদের নবীর জন্মদিন উপলক্ষে যদি আমরা রোজা রাখি তাহলে এতে আমরা অনেক সোয়াব লাভ করতে পারব।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রোজা রাখার ফজিলত
এবার আমরা জানব বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রোজা রাখার ফজিলত কি?? বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কেন রোজা রাখা হয়?? চাইলেই কি প্রতিদিন রোজা রাখা সম্ভব? না আমাদের নবী সর্বদা বলেছেন তোমরা একদিন বাদ দিয়ে দিয়ে রোজা রাখো অর্থাৎ প্রতিদিন নফল রোজা রাখা যাবে না।
ফরজ রোজার ক্ষেত্রে আমরা একটানা এক মাস সাউন্ড পালন করি এক মাস রোজা রাখি কিন্তু নফল রোজা ক্ষেত্রে কোন মুসলমান চাইলেই কিন্তু প্রতিদিন রোজা রাখতে পারবে না এটি অনুচিত। একদিন বাদ দিয়ে দিয়ে রোজা রাখতে হবে যেমন শনিবার সোমবার বৃহস্পতিবার রোজা রাখতে হবে।
আমাদের প্রিয়নবী বলেছেন তোমরা প্রতি সপ্তাহে একদিন দুইদিন কিংবা ৩ দিন পর্যন্ত রোজা রাখতে পারবে। কিন্তু প্রতিদিন যখন শনিবার সোমবার অর্থাৎ সপ্তাহে সাত দিন রোজা রাখতে পারবেন না। এটি অনুচিত। আমরা শরবতে চেষ্টা করব আমাদের নবীর বলে দেওয়া বিধি-বিধান গুলো পালন করার।
এই কথাগুলো বলার কারণ হচ্ছে কারণ যেহেতু আমাদের প্রিয় নবী বলেছেন বৃহস্পতিবারে নফল রোজা রাখতে সেক্ষেত্রে বৃহস্পতিবারের পরের দিন জুম্মার দিন শুক্রবারে রোজা রাখা যাবে না। এটি সম্পূর্ণ অনুচিত। জুমার দিনে রোজা রাখা যাবেনা।
যারা জুম্মার দিনে রোজা রাখেন তারা আজ থেকেই তোবা পাঠ করুন এবং জুম্মার দিনে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকুন। আপনারা প্রতি শনিবার সোমবার এবং বৃহস্পতিবার রোজা রাখতে পারবেন। প্রতি সোমবার শনিবার কিংবা বুধবার পর্যন্ত রোজা রাখতে পারবেন।
কিন্তু বুধবারের পরের দিন বৃহস্পতিবার। কিন্তু আর রাখতে পারবেন না তাই সবচেয়ে ভালো হবে যদি প্রতি শনিবার সোমবার এবং বৃহস্পতিবার রোজা রাখেন। আপনি বুধবারেও রোজা রাখতে পারবেন। কারণ সোমবারের পর একদিন বাদ দিয়ে বুধবার আসছে। কিন্তু বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবারের দিনে রোজা রাখা বেশি ফজিলতপূর্ণ।
আশা করি আপনারা সকলে বুঝতে পেরেছেন বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে। বৃহস্পতিবার রোজা রাখলে আপনার গুনাহের মাফ পাবেন আপনি সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভ করতে পারবেন সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসা অর্জন করতে পারবেন কিন্তু শুক্রবারে রোজা রাখলে কোন ফজিলত পাবেন না বরং এটি আমাদের নবীর বিধি-বিধানকে অমান্য করা হয় এটি সম্পূর্ণ অনুচিত।
প্রতিদিন রোজা রাখা যাবে?
অনেকেই জানতে চান প্রতিদিন রোজা রাখা যাবে?? এ বিষয়ে আমাদের নবী কি বলেছেন?? কোন মুসলমান চাইলেই কিন্তু প্রথমে রোজা রাখতে পারবে না এ বিষয়ে আমাদের নবী খুব স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে তোমরা প্রতি একদিন পরপর রোজা রাখো অর্থাৎ শনিবারে রোজা রাখলে রবিবার মাঝখানে বাদ দিয়ে ,
সোমবারে রোজা রাখো আবার সোমবারে রোজা রাখলে মঙ্গলবার মাঝখানে বাদ দিয়ে বুধবারে রোজা রাখো কিন্তু বুধবারে তুলনায় বৃহস্পতিবারে রোজা রাখা বেশি ফজিলতপূর্ণ তাই নবী বলেছেন তোমরা প্রতি সোম শনিবার এবং বৃহস্পতিবার রোজা রাখো। তাই চেষ্টা করবেন এই তিনদিন রোজা রাখার আর হ্যাঁ জুম্মার দিনে কিন্তু রোজা রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আপনারা এই দিনে রোজা রাখতে পারবেন,
- শনিবার, সোমবার এবং বৃহস্পতিবার
- অথবা শনিবার সোমবার এবং বুধবার
- অথবা রবিবার মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার
এক সপ্তাহে শুধুমাত্র তিন দিন রোজা রাখতে পারবেন। কেউ যদি তিন দিনের বদলে চার দিন পাঁচ দিন তিন বা ছয় দিন রোজা রাখে তাহলে এটি ইসলামে নিষিদ্ধ। আর হ্যাঁ কেউ যদি নিষিদ্ধ কাজ পালন করে তাহলে অবশ্যই এটি এক ধরনের গুনাহ। তাই আমরা চেষ্টা করব আমাদের নবীর বলে দেওয়া সুন্নত গুলো পালন করার।
লেখকের শেষ কথা
আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে আলোচনা করা হলো রাসুল সাঃ সোমবার কেন রোজা রাখতেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রোজা রাখার ফজিলত, সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার নিয়ম এবং সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে।
আশা করছি আপনারা সকলে বুঝতে পেরেছেন প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার ফজিলত গুলো কি কি এবং এই রোজা নফল নাকি ফরজ রোজা?? প্রতি সোমবার এবং বৃহস্পতিবার এ রোজা হচ্ছে নফল রোজা এটি ফরজ রোজা নয় ফরজ রোজা বলতে বোঝায় যা আমাদের প্রত্যেকের উপর ফরজ করা হয় এবং আমাদের প্রত্যেকের রোজা গুলো রাখা খুবই জরুরী।
আর নফল রোজা বলতে বোঝায় আপনি চাইলে রাখতেও পারেন আবার নাও রাখতে পারেন। অর্থাৎ নফল রোজার ক্ষেত্রে কোন বাধ্যবাধকতা নেই যে রাখতেই হবে। নফল রোজা এটি হচ্ছে আমাদের ঐচ্ছিক রোজা আমরা চাইলে রাখতে পারি আবার চাইলে নাও রাখতে পারি। কিন্তু এই নফল রোজা গুলো ফজিলত অনেক বেশি। তাই আমাদের প্রত্যেককে চেষ্টা করতে হবে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার নফল রোজা পালন করার।

বাংলা আইটিটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url